নিজস্ব প্রতিনিধি : ময়মনসিংহে পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে পুড়িয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মো. বাবলু মিয়া (২৪) নামের আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। রোববার রাত ১১টার দিকে ভালুকা উপজেলার ডুবালিয়াপাড়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ পর্যন্ত মামলায় মোট ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তি ভালুকা উপজেলার ডুবালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং মো. সাইফুল ইসলামের ছেলে। ঘটনার পরপরই সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ শুরু করে পুলিশ। এর ধারাবাহিকতায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে বাবলু মিয়ার সংশ্লিষ্টতার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে কারখানার গেটে লোক জড়ো করার ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করেন। প্রথমে তিনি স্লোগানের মাধ্যমে জনতাকে উত্তেজিত করে কারখানার গেটে সমবেত করেন। পরে দীপু চন্দ্র দাসকে গেটের সামনে মারধর এবং তাঁর মরদেহ মহাসড়কে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন। উত্তেজিত জনতার মাধ্যমে নির্যাতনের ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল বলে জানায় পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে ভালুকার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার কর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে ও পড়ে মরদেহ ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই অপু চন্দ্র দাস অজ্ঞাতপরিচয় ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে সোমবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এ পর্যন্ত মামলায় মোট ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১১ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে

0 Comments