Header Ads Widget

Responsive Advertisement

ভালুকায় ১৪ বছরের কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, অভিযুক্ত ৪ জনকে গ্রেপ্তার


 স্টাফ রিপোর্টার ঃ 

ময়মনসিংহের ভালুকায় ফেসবুক প্রেমিকের সাথে দেখা করতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িত ৪ অভিযুক্তকে ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

ভুক্তভোগী কিশোরীর জীবনকাহিনি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলায়। মাত্র ৪ মাস বয়সে মা এবং ৪ বছর বয়সে বাবাকে হারানোর পর গত ১০ বছর সে সৎ মায়ের কাছে বড় হয়। সৎ মায়ের অমানবিক শারীরিক নির্যাতন সইতে না পেরে দুই মাস আগে বাড়ি থেকে পালিয়ে সে ময়মনসিংহে চলে আসে এবং একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাক্তারের সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করে।

পুলিশ জানায়, প্রায় ছয় মাস আগে ‘জিসান ইসলাম’ নামক একটি ফেসবুক আইডির সাথে ওই কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই আইডি থেকে তাকে বারবার দেখা করার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছিল। গত ১৪ মার্চ রাতে কিশোরী ময়মনসিংহ থেকে বাসযোগে রাত ৯ টায় ভালুকা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছায়। সেখান থেকে জিসানের নির্দেশমতো এক ব্যক্তি তাকে রিসিভ করে সিএনজিতে তোলে।

সিএনজিতে করে কিশোরীকে পাঁচগাঁও নামক নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথিমধ্যে কিশোরীর সন্দেহ হলে সে সেখান হতে অগ্রসর হতে অস্বীকৃতি জানায়।আসামিরা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ভিকটিমকে বলপূর্বক জোরপূর্বক পাঁচগাঁও খালের পাড়ে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকে উপস্থিত আরও ৩ জনসহ মোট ৪ জন রাত ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে খালের পাড়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় ভালুকা মডেল থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করেন।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো ১. মো. হোসাইন (২১), ২. মো. ফারুক আহাম্মেদ (১৭), ৩. মো. আরিফ (১৭) এবং ৪. মো. মেহেদী হাসান (২০)। তারা সবাই ভালুকার পাঁচগাঁও এলাকার বাসিন্দা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন (অর্থ ও প্রশাসন)জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তারা দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। এই ঘটনায় ভালুকা মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের ধরতেও অভিযান চলমান রহেছে

Post a Comment

0 Comments