ময়মনসিংহে মাদক কারবারের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে মো. সুমন মিয়া (৩৫) নামে এক যুবককে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ৪৮ ঘন্টার মধ্যে প্রধান ০৩ আসামী কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে সোমবার কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সদর উপজেলার অষ্টধার কুঠুরাকান্দা গ্রামের মো. আহাদ আলীর ছেলে মো. সজিব আলী (২০), অষ্টধার ভিটাপাড়া গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে নাজমুল ইসলাম (২৫) এবং একই গ্রামের মাহিন মিয়ার ছেলে শিহাব মিয়া ওরফে শিপন (১৬)। নিহত মো. সুমন মিয়া একই গ্রামের আমছর আলীর ছেলে। তারা নিয়মিত মাদক কারবার ও সেবনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।পুলিশ জানায়, সম্প্রতি মাদক কারবারের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে সুমন মিয়ার সঙ্গে সজিব আলীর হাতাহাতি হয়। এ বিরোধের ধারাবাহিকতায় সজিবসহ গ্রেপ্তারকৃতরা সুমনকে হত্যার পরিকল্পনা করে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে সুমনকে মোবাইল ফোনে ডেকে অষ্টধার সেনপাড়া এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তারা প্রথমে গাঁজা সেবন করে। একপর্যায়ে টাকার বিষয় নিয়ে আবার কথাকাটাকাটি শুরু হলে কয়েকজন মিলে ধারালো ছুরি দিয়ে সুমনের কপাল, থুতনী, গলা, ঘাড়, বুক ও তলপেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তাকে হত্যা করে। পরে সুমনের লাশ অষ্টধার সেনপাড়া এলাকার সাহেব বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণে রেললাইনের দক্ষিণ পাশে ধানক্ষেতের সেচ নালার ওপর ফেলে রেখে তারা চলে যায়। এ ঘটনায় নিহত সুমনের মামা মাহিন হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মামলাটি নিবিড় তদন্ত ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সজিব, নাজমুল ও শিপনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার প্রত্যেকেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। গ্রেপ্তার শিশু শিহাব মিয়া ওরফে শিপনকে আদালতের নির্দেশে গাজীপুর কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।

0 Comments