চরকা ডেস্ক ঃ
সমাজ উন্নয়ন, কর্মক্ষেত্রে সফলতার স্বাক্ষর রাখাসহ পাঁচটি ক্যাটাগরিতে স্ব স্ব ক্ষেত্রে অবদানের জন্য পাঁচজন অদম্য নারীকে সম্মাননা ও পুরস্কৃত করা হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে এবং ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক কার্যালয়ের আয়োজনে ময়মনসিংহ বিভাগের সংবর্ধনা অনুষ্টান ‘অদম্য নারী পুরস্কার ২০২৫’ অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা জানানো হয়।
মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) বেলা ১১ টায় ময়মনসিংহ শহরের জেলা পরিষদের ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘অদম্য নারী পুরষ্কার ২০২৫’ অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার কাজী জিয়াউল বাসেতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী, এনডিসি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, তিনি যে বিষয়টি তুলে ধরতে চান তা কেবল একটি আলোচনা নয়, এটি এক জ্বলন্ত সত্য, এক অনুপ্রেরণার নাম অদম্য নারী। সেই নারী, যিনি প্রতিকূলতার কাছে মাথা নত করেন না, হোঁচট খেলেও বারবার উঠে দাঁড়ান, নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যান।
সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার নুরুন নাহার আক্তার, শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার ডাঃ উম্মে রাকিবা জাহান মিতু, সফল জননী হিসেবে হাসনা হেনা বারী, সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ থানার তাহমিদা ইসলাম ও নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোমে জীবন শুরু করেছেন যে নারী নাসরিন বেগম।
তিনি বলেন, “অদম্য” শব্দটি উচ্চারণ করলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে এমন এক নারীর প্রতিচ্ছবি, যিনি এক হাতে সংসার সামলান, অন্য হাতে সমান তালে এগিয়ে নেন নিজের ক্যারিয়ার কিংবা পড়াশোনা। দায়িত্ব ও স্বপ্ন দুটিকেই তিনি সমান গুরুত্ব দেন।
বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, আমাদের সমাজে একজন নারীকে শৈশব থেকে কৈশোর, কৈশোর থেকে যৌবন প্রতিটি ধাপে নানান প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। কুসংস্কার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়তে হয়, নিজের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করতে হয়। এই অবিরাম সংগ্রামই তাকে গড়ে তোলে অদম্য নারীতে।
কমিশনার বলেন, অদম্য নারী সেই শক্তির নাম, যিনি ছোট একটি বীজ থেকে মহীরুহ সৃষ্টি করতে পারেন। যিনি ইট-কাঠ কিংবা একটি কুঁড়েঘরকে ভালোবাসা ও শান্তির নীড়ে পরিণত করেন। যিনি স্বামীর মৃত্যুর পরও একা হাতে সাত-আটজন সন্তানকে মানুষ করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন। প্রয়োজনে দেশমাতৃকার জন্যও তিনি সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে প্রস্তুত থাকেন।
বক্তব্যের শেষে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, একজন অদম্য নারী শুধু নিজের ভাগ্যই পরিবর্তন করেন না, তিনি একটি পরিবার, একটি সমাজ, এমনকি পুরো একটি দেশের ভাগ্য বদলে দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি অফিসের পুলিশ সুপার (অপারেশনস) মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন তালুকদার, ময়মনসিংহ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) লুৎফুন নাহার ও ময়মনসিংহ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজনিন সুলতানা প্রমুখ।

0 Comments